যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর শুল্ক না কমলে দেশের রফতানি বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ পরিস্থিতিতে রফতানি, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।
বৈঠকে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সহসভাপতি একে আজাদ ও সিমিন রহমান, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, বিজেএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, স্কয়ার ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, লেদার গুডস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নিজাম মনসুর, সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাইনুল ইসলাম, ইকোনমিক জোনস ইনভেস্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ জাব্বার, বাংলাদেশে টেরি টাওয়াল অ্যান্ড লেলিন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আমীর খসরুর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তাসভীরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে আমীর খসরু সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য রফতানি করে, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গার্মেন্টস শিল্পের। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫-১৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। শুল্ক না কমলে শুধু ৮ বিলিয়ন ডলারের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শ্রমবাজার, এমনকি মানুষের জীবনযাপন পর্যন্ত হুমকির মুখে পড়বে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলো, শিল্পপতি, রফতানিকারক, এমপ্লয়ারস অ্যাসোসিয়েশন—সবার সম্মিলিত ভূমিকা জরুরি।’
চলমান শুল্ক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগের কথা বলেছেন বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও রফতানিকারকদের মতামত শুনেছি। বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি সরকারকে জানানো হবে। আমরা চাই সরকারকে সহযোগিতা করতে। এটা রাজনৈতিক বিরোধিতার জায়গা না, বরং দেশের স্বার্থে সবার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দরকার।’
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ফলপ্রসূ করতে হবে বলেও জানান আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘ভারত ও ভিয়েতনামের চেয়ে আমাদের ট্যারিফ বেশি হলে তা বড় প্রভাব ফেলবে। এ সমস্যা সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, বরং সমন্বিতভাবে দেশের স্বার্থে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছা দরকার।’